ওসমানীতে যুবলীগ সভাপতির যোগসাজশে নিয়োগে বাণিজ্য – তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

ওসমানীতে যুবলীগ সভাপতির যোগসাজশে নিয়োগে বাণিজ্য

ওসমানীতে যুবলীগ সভাপতির যোগসাজশে নিয়োগে বাণিজ্য

মূলহোতা সৌদি সিকিউরিটি এন্ড ক্লিনিং সার্ভিসের রুবেল ও সামছু
মূলহোতা সৌদি সিকিউরিটি এন্ড ক্লিনিং সার্ভিসের রুবেল ও সামছু

তদন্ত রিপোর্ট প্রতিবেদক: কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য চলছে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে। হাসপাতালের আউটসোর্সিং জনবল ২৬২ পদের বিপরীতে এই নিয়োগ বাণিজ্য করছে ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান সৌদি সিকিউরিটি এন্ড ক্লিনিং সার্ভিস লিমিটেড। দরপত্র অনুযায়ী প্রত্যেকটি পদে ৬ মাস মেয়াদ উল্লেখ করা হলেও ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান ২ বছরের কথা উল্লেখ করে প্রত্যেক আবেদনকারীর কাছ থেকে পদ ভেদে ৭০ হাজার টাকা থেকে দেড় টাকা টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। দরপত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবল নিয়োগের বিষয়টিও সুস্পষ্ট লংঘন করে নতুন আবেদনকারী সংগ্রহ করে চলছে নিয়োগ বাণিজ্য।

জানা গেছে- গেল বছরের ১৭ অক্টোবর আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ২০২৪-২০২৫ ইং অর্থবছরের জন্য ২৬২ পদের বিপরীতে জনবল সরবরাহের অনুমতি পায় সৌদি সিকিউরিটি এন্ড ক্লিনিং সার্ভিস লি.। দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে যোগদান কার্যক্রম। ১০ ক্যাটাগরিতে ২৬২ আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে- বাবুর্চি, সহকারী বাবুর্চী, নিরাপত্তা প্রহরী, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আয়া, ওটি এটেনডেন্ট (আইসিইউ), ইমার্জেন্সি এটেনডেন্ট, ওটি এটেনডেন্ট ও ওপিটি এটেনডেন্ট পদ রয়েছে।

আগে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং কাজে ২৬২ টি জনবলের জন্য টেন্ডার পায় দুই কোম্পানী। আল-আরাফাহ সিকিউরিটি ও গালফ সিকিউরিটি কোম্পানী। এক বৎসর মেয়াদে ২০২২ সালে এই দুটি কোম্পানী জনবল নিয়োগ দিলেও পরবর্তীতে হাসপাতালের পরিচালকের নির্দেশে পুরনো স্টাফ হিসেবে নবায়ন ছাড়া তাদের জনবলকেই পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগ- বর্তমানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের যোগসাজশে নতুন করে আউটসোর্সিং জনবলের জন্য দায়িত্ব পায় অখ্যাত কোম্পানী সৌদি সিকিউরিটি ক্লিনিং সার্ভিস লিমিডেট। সাথে যুক্ত রয়েছে হাসপাতালে স্টাফদের একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটকে কাজে লাগিয়ে এখন চলছে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রায় ৯ জন আবেদনকারী ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। প্রতিটি পদের বিপরীতে (পদভেদে) ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাকুরী প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার দেলোয়ার ও হাসপাতালের বাবুচি নুর ইসলাম ও লম্বা শফিক, হাসপাতালের অফিস সহকারী কালাম ও জুমের আলী, কোম্পানীর সাবেক স্টাফ রুবেল ও সামছু। এই দুই জনের মধ্যে সামছু হলেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক রূপসার স্বামী। নেপথ্যের নায়ক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রকিব বাবলুর ছোট ভাই ও নগরীর ১১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল খালিক লাভলু।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক- একাধিক স্টাফের সাথে আলাপকালে জানা গেছে- কোম্পানীর সাবেক স্টাফ রুবেল ও সামছু নতুন স্টাফদের কাছ থেকে ১ লাখ ও পুরাতন স্টাফদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। যারা টাকা দিচ্ছেন তাদের সিভি নিয়ে ওয়ার্ড মাস্টার দেলোয়ারের কাছে জমা দিচ্ছেন। দেলোয়ারের টেবিলে এ সকল সিভি রয়েছে।

সমূহ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক আহমদের ব্যক্তিগত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য মিলেনি।

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টর দেলোয়ার সিভি প্রতি টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন- দেড় লাখ নয়, ১ লাখ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল খালিক লাভলু ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনার একাধিক মামলায় পলাতক আসামি হওয়ায় আইন অনুযায়ী তার বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo